No icon

সাধারণ মানুষের হাতে ৮৫ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

দ্য স্মল আর্মস সার্ভে-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, সেনাবাহিনী নয় বিশ্বের ধনী দেশগুলির সাধারণ মানুষের হাতেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি বন্দুক। দ্য স্মল আর্মস সার্ভে একটি গ্লোবাল রিসার্চ প্রোজেক্ট, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভিত্তিক একটি সংস্থা। 

তাদের নতুন রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের ১০০ কোটি আগ্নেয়াস্ত্রর মধ্যে ৮৫ শতাংশ বন্দুক সাধারণ মানুষের হাতে রয়েছে। বাকি আগ্নেয়াস্ত্রর মালিক সেনা ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে। প্রায় ২৩০টি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করেছে তারা।

ব্যক্তিগত সুরক্ষার নামে সাধারণ মানুষের পছন্দ সেল্ফ লোডিং পিস্তল, রাইফেল, কারবাইন, অ্যাসল্ট রাইফেল, সাব অ্যান্ড লাইট মেশিং গান।

গতবারের সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে ব্যক্তিগত বন্দুকধারীর পরিমাণ। আর এই ৮৫ শতাংশ সাধারণ মানুষের ৪০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। বিশ্বের মাত্র ৪ শতাংশ লোক থাকে যে দেশে, সেই দেশের মানুষের হাতে বিশ্বের ৪০ শতাংশ বন্দুক রয়েছে!

সভ্যতার উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়েছে নানা ধরনের অস্ত্র।  আদিমকাল থেকে মানুষ অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে নিজেকে বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু ধীরে ধীরে এখন অস্ত্রের ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন অস্ত্রের ঝনঝনানি বেড়েছে মানুষ মানুষকে মারতেই। তার একটি নিদর্শন বলতে পারেন একটি দেশের ৩২ কোটি নাগরিকের মধ্যে ২৯ কোটি মানুষের হাতে অস্ত্রের থাকা।  এর ফলও মারাত্মক আকার ধারণ করছে দেশটিতে। দেশটির নাম যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়া প্রতিদিনের ঘটনা। 

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এলোপাতাড়ি গুলিতে (Mass Shooting) ৩৪৬ জন নিহত হন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ৪৩২, এবং ২০১৫ তে এটি ছিল ৩৬৯।যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ এলোপাতাড়ি গোলাগুলির (Mass Shooting) থেকে ‘বড় ধরনের এলোপাতাড়ি গুলি’ (Major Mass Shooting) কে আলাদা করে দেখা হয়। কোনো ঘটনায় চারজনের বেশি লোক নিহত হলে সেই ঘটনাকে ‘মেজর ম্যাস শুটিং’ বলা হয়। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি ৭২ দিনের ব্যবধানে একটি বড় ধরনের এলোপাড়াতি গুলির ঘটনা ঘটে। ২০০০ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত এই ব্যবধান ছিল ১৬২ দিন। দিন দিন এমন ঘটনার হার বেড়েই চলেছে।

সাধারণ মানুষের অস্ত্রের বৈধ মালিকানার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে এক নম্বর। দেশটির শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষের বৈধভাবে ব্যক্তিগত অস্ত্র রয়েছে। দেশটিতে ৩২ কোটি মানুষের হাতে ২৯ কোটি অস্ত্র রয়েছে। ২০০৭ সালের এক হিসাব মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের কাছে ২৫ থেকে ২৯ কোটি অস্ত্র রয়েছে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা ৩২ কোটির একটু বেশি। ২০০১ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ১৩ বছরে দেশটিতে গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৪ লাখ ছয় হাজার ৪৯৬ জন। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এই তথ্য দিয়েছে।  এর মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫২ জন নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন! এক লাখ ৫৩ হাজার ১৪৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সাড়ে আট হাজার জন দুর্ঘটনায় গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে চার হাজার ৭৭৮ জন।

হিলারি ক্লিনটন বলেছিলেন, মার্কিন পুলিশদের কাছে যত অস্ত্র আছে এবং যে ধরণের অস্ত্র আছে, তার থেকেও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে আছে। সে কারণে এখনও রাস্তায় সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলতে চাচ্ছি, যে সকল মানুষ অস্ত্র রাখার যোগ্যতা রাখে না বা যাদের বাজে অতীত রয়েছে তাদের হাত থেকে অস্ত্র নিয়ে নেয়ার পক্ষে আমাদের অবস্থান। রাস্তায় অস্ত্রের পরিমাণ কমাতে চাই আমরা।

 

Comment As:

Comment (0)