No icon

আর্থিক খাতে সাইবার হামলা, মোকাবেলায় 'ইথিক্যাল হ্যাকার'

দেশের আর্থিক খাতে সাইবার হামলা মোকাবেলায় ‘ইথিক্যাল হ্যাকার’ বা নৈতিক হ্যাকার গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে ইথিক্যাল হ্যাকার গড়ে তোলার পাশাপাশি সব ব্যাংক মিলে একটি আলাদা কম্পানি গঠনের মাধ্যমে নিজস্ব সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সেমিনারে বক্তারা এসব পরামর্শ দেন। রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর তথ্য-প্রযুক্তি নিরাপত্তা : হুমকি ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় সাইবার অ্যাটাকের মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেই ২৮ শতাংশ ব্যাংকের। আংশিক প্রস্তুতি আছে ৩৪ শতাংশ ব্যাংকের। তবে যেকোনো ধরনের সাইবার অ্যাটাক মোকাবেলায় প্রস্তুত ৩৮ শতাংশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটিএম কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা বেশি। প্রায় ৪৩ শতাংশ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। প্রায় ২৫ শতাংশ ঘটনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটেছে। প্রায় ১৫ শতাংশ এসিপিএস ও ইএফটির মাধ্যমে জালিয়াতি ঘটছে ব্যাংক খাতে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১২ শতাংশ, ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারে ৩ শতাংশ, সুইফট এবং অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে ঘটছে ২ শতাংশ জালিয়াতির ঘটনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, দিন দিন বিশ্বব্যাপী আইটি ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতও এর বাইরে নেই। এ খাতের ওপর যেসব আক্রমণ হচ্ছে তা জটিল। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে আলাদা গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। এগুলো সঠিকভাবে পালন করলে ঝুঁকি কমে আসবে।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান আলম বলেন, এখন সময় এসেছে দেশে ইথিক্যাল হ্যাকার গড়ে তোলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কাজটি করতে পারে।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের এএমডি এস এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন দেশে আন্ডারগ্রাউন্ড হ্যাকার বা ইথিক্যাল হ্যাকার গড়ে তোলা দরকার। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রতিষ্ঠানের আইটি সিকিউরিটি ভেদ করে ঢোকার চেষ্টা করবে। এর ভিত্তিতেই ব্যাংক নতুন করে কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে সেটি বেরিয়ে আসবে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, আইটি খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকারদের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার। কারণ এই খাতটি অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উল আলম বলেন, হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হবেই। মোকাবেলার প্রস্তুতি কতটুকু নিলাম তা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে আইটি জ্ঞান স্পষ্ট থাকা জরুরি।

কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির কান্ট্রি ম্যানেজার ভরুনা প্রিয়াশান্ত কলামুনা বলেন, হ্যাকাররা সব সময় সাইবার হামলার জন্য প্রস্তুত। ব্যাংক খাত এ ঝুঁকির বাইরে নেই। ব্যাংকের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদেরই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল বলেন, ব্যাংক খাতে কর্মী নিয়োগের সময় আইটিতে জ্ঞান আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। ব্যাংককর্মীদের আইটি খাতে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না থাকলে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, আইটি প্রডাক্ট কেনার আগে তার গুণাগুণ ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। এই গুণাগুণ সম্পর্কে না জানলে একজন আইটি কর্মকর্তা কখনোই পর্ষদকে সেগুলো কেনার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করাতে রাজি করতে পারবেন না। সেমিনারে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিউল আজম, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলী প্রমুখ।

Comment As:

Comment (0)